২২.৮.১৮

কলিযুগে কি হবে ??


কলিযুগের বয়স ৪ লক্ষ ৩২ হাজার
বছর....

৫০০০ বছর অতিক্রম
করেছে...৪২৭০০০ বছর রয়েছে।
আজ থেকে ৫০০ বছর আগে
চৈতন্য মহাপ্রভু
এসেছিলেন,তিনি
বলেছেন..এখন থেকে ১০
হাজার বছর পরে ঘোরকলি শুরু
হয়ে যাবে। অর্থাৎ তখন আর ধর্ম
থাকবে না। ৫০০বছর চলে
গেছে, অর্থাৎ এখন থেকে
৯৫০০বছর পরে পৃথিবীতে আর
কোন ধর্ম থাকবে না। এসম্পর্ক
শাস্ত্রে বলা হয়েছে,কলির
প্রভাবে কেউ আর হরি নাম
নেবে না। বেদব্রত সম্তই লুপ্ত
হবে..মিথ্যার প্রভাবে সবাই
কামাচারী হবে। বিবাহের
ব্যতিক্রম হবে। নারী পুরুষের
মাঝে কোন ভেদ থাকবে না।
সব আচার বিচার বিলুপ্ত হবে।
রমনীর আজ্ঞায় সকল পুরুষ চলবে।
নরহত্যাকরী আর প্রবঞ্চক চোরে
সাধুরে নিন্দা করবে। নারীরা
অষ্টম বর্ষে যুবতী হবে..বিশ
বছরে জরাজীর্ণ হবে। কলিতে
মাতা,পত্নী,পুত্
রবধু,ভগনী, সকলে ঘোর ব্যভিচার
করবে। ব্যভিচার করে যে ধন
উপার্জন হবে তা দিয়ে পুরুষ
জীবন ধারন করবে।
ভগনী,বিমাতা কোন বিচার না
করে..সকল লোক নিত্য ব্যভিচার
করবে। এক মাত্র নীজ মাতা
পরিহার করে..পরপত্নী সহ বিহার
করবে। কার পতি..কার
পত্নী..কোন ঠিক থাকবে না।
চারি দিকে শুধু পাপ বিরাজ
করবে। বৃক্ষ গুলো সব হবে এক
হাতের সমান..মানুষ হবে এক
আঙ্গুলের সমান। সেই সময় ভগবান
শ্রীকৃষ্ণ কল্কিমূর্ত্তি ধরে
আবির্ভূত হবেন। বিশাল ষোটকে
কল্কি আরোহন করে, ভুবন থেকে
তিন রাত্রে ম্লেচ্ছশূণ্য করিবে।
বাসের অযোগ্য হবে এই ধরাতল।
সূর্যের তেজের প্রভাবে ধরনীর
সকল জল শুষ্ক হয়ে যাবে। ভীষণ
সেই কলিকাল অতীত হলে, এই
ধরায় ধর্মে আবার পরিপূর্ণ হবে।
সত্যযুগ ধরণীতে আসিবে আবার।
পৃথিবীতে তখন ধর্মের প্রচার
হবে। কলির প্রভাবে সব সদাচার
লুপ্ত ছিল, সত্যযুগে পুনরায় তা
প্রতিষ্ঠিত হবে। সর্ব লোকের
মাঝে বেদ-স্মৃতি ''কৃষ্ণনাম''
আবার প্রচালিত হবে। যারা
ঘোরকলিতে জন্মগ্রহন
করবে..তারা কত দুর্ভাগা,তাদের
মুক্তির পথ সুদূর প্রসারী। যখন ধর্ম
থাকবে না..তখন মা-বাবা, ভাই-
বোন এদের মধ্যে কোন সম্পর্ক
থাকবে না। ফলে সবাই ব্যভিচার
করবে। সেই দিন সামনে আসছে।
যার নমুনা এখনি শুরু হয়ে গেছে।
শাস্ত্রে বলা হয়েছে.কলির
প্রভাবে কলিকালে কপট ধর্মের
সৃষ্টি হবে। সেখানে সৃষ্টকর্তা
কে সেটাই তারা জানবে না।

collected

দেবতা ও ভগবানের পার্থক্য?


দেবতা ও ভগবানের পার্থক্য?


সাধারণত হিন্দু সমাজে কিছু মানুষ
দেবতা ও
ভগবানের পার্থক্য জানে না। ইন্দ্র, চন্দ্র,
বরুণ, শিব, দুর্গা, কালী প্রভৃতি
দেবতাদের
সঙ্গে বিষ্ণু, নারায়ণ, রাম, নৃ্সিংহ, বামন
প্রভৃতি ভগবানের সম পর্যায়ভুক্ত বলে
মনে
করে থাকেন। এটি আমাদের জানা উচিত
যে
ভগবান ও দেবতাদের মধ্যে বিরাট
পার্থক্য
আছে। যেমন- দেবতারা হচ্ছেন ভগবানের
দ্বারা নিযুক্ত এ জড়জগতের বিভিন্ন
কার্য
সম্পাদনের নিয়ন্ত্রণ কর্তা। যে ভাবে
অগ্নি
দেবতা অগ্নি নিয়ন্ত্রণ করেন; বরুণদেব
জলের
নিয়ন্ত্রণ করেন; বায়ু দেবতা বায়ু
নিয়ন্ত্রণ
করেন ইত্যাদি। শাস্ত্র অনুসারে
দেবতারা
জীবতত্ত্ব। যে কোন জীব ভগবান থেকে
বিশেষ শক্তি প্রাপ্ত হয়ে দেবতাদের
আসন
গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু ভগবান
জীবতত্ত্ব
নন, তিনি হচ্ছেন বিষ্ণু তত্ত্ব। দেবতাদের
আধিপত্য এই জড়জগতে সীমাবদ্ধ, কিন্তু
ভগবানের আধিপত্য বা ঐশ্বরত্বের
প্রভাব জড়
ও চিন্ময় জগত সর্বত্র ব্যাপ্ত। দেবতারা
মানুষকে একমাত্র ভৌতিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য
প্রদান করতে পারেন, কিন্তু মুক্তি দিতে
পারেন না। ভগবান জীবকে মুক্তি প্রদান
করতে পারেন। দেবতারা মায়াধীন,
কিন্তু
ভগবান হচ্ছেন মায়াধীশ। সৃষ্টি ও
প্রলয়কালে
দেবতাদেরও প্রভাবিত হতে হয়, কিন্তু
ভগবান
নিত্য বর্তমান এবং তার ধামও নিত্য
বর্তমান।
এইভাবে ইন্দ্রলোক, চন্দ্রলোক প্রলয়ের
সময়ে
সব ধ্বংস প্রাপ্ত হবে। কিন্তু ভগবানের
ধাম-
বৈকুণ্ঠ, অযোধ্যা, গোলক বৃন্দাবন
ইত্যাদি
ধ্বংস প্রাপ্ত হবে না। ইন্দ্র, চন্দ্র প্রভৃতি
দেবতাগণ প্রকৃতির তিনটি গুণ দ্বারা
পরিচালিত হয়ে থাকেন। কিন্তু ভগবান
শ্রীকৃষ্ণ, রাম, নারায়ণ প্রভৃতি গুণাতীত।
তাদের কার্যকলাপ প্রকৃতির তিনটি গুণ
দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না। সাধারণ মানুষ
এই
সমস্ত পার্থক্য বুঝতে পারে না। দেবতা ও
ভগবানকে এক বা সমপর্যায় বলে মনে
করে
থাকে। এটি অবশ্য জেনে রাখা উচিত
আমাদের বৈদিক সাহিত্যে তেত্রিশ
কোটি
দেবতাদের বর্ণনা করা হয়েছে।
শাস্ত্রানুসারে যারা বিভিন্ন জাগতিক
সুখ-
স্বাচ্ছন্দ্য বা বিভিন্ন ফল অতি সত্ত্বর
লাভ
করতে চান, তারা ভিন্ন ভিন্ন দেবতাদের
উপাসনা করতে পারেন। কিন্তু সেটি
বুদ্ধিমান মানুষের কাজ নয়, কেননা
জাগতিক
ফল অনিত্য। যারা বুদ্ধিমান ব্যক্তি তারা
ভগবানের শরণাগত হন। এভাবে সমস্ত
দেবতাদেরকে ভগবান বলে উপাসনা করা
ঠিক
নয়। তার সঙ্গে সঙ্গে এটুকুও জানতে হবে
যে
দেবতাদের ভগবানের সমান না হলেও
তাঁরা
ভগবানের অতি নিজজন, তাঁরা পূজ্য, তাই
দেবতাদের শ্রদ্ধা করা মানুষের কর্তব্য।
দেবতাদের পূজা করা যেতে পারে,
শ্রদ্ধা
করা যেতে পারে, কিন্তু ভগবানকে ভক্তি
করতে হয়। এভাবে মানুষের ভগবান ও
দেবতাদের মধ্যে পার্থক্য জেনে
শ্রদ্ধাযুক্ত
হয়ে ভগবানের ভক্ত হওয়া কর্তব্য। তা না
হলে
দুর্লভ মনুষ্য জীবনের আসল লক্ষ্যে
পৌছাতে
পারবে না। ভগবদ্গীতায় বর্ণনা করা
হয়েছে-
যান্তি দেবব্রতা দেবান্ পিতৃন্ যান্তি
পিতৃব্রতাঃ।
ভূতানি যান্তি ভূতেজ্যা যান্তি
মদ্যাজিনোহপি মাম্।।
(ভঃগী ৯/২৫)
দেবতাদের উপাসনা করলে দেবলোক
যাবে,
পিতৃপুরুষদের উপাসনা করলে পিতৃলোক
যাবে,
ভূত-প্রেতের পূজা করলে ভূতলোক যাবে।
কৃষ্ণের উপাসনা করলে কৃষ্ণের ধামে
যাবে।
দেবতাদের পূজা করে দেবলোক যাবে
এবং
কৃষ্ণের পূজা করে কৃষ্ণ লোক যাবে- এটার
মধ্যে পার্থক্য হল- দেবলোক যাওয়ার পর
পুণ্য
শেষ বা ক্ষয় হলে আবার মর্ত্যলোকে
ফিরে
আসতে হবে। ভগবদ্গীতায় বলা
হয়েছে-“আব্রহ্মভূবনাল্লোকাঃ
পুনরাবর্তিনোহর্জুন” কিন্তু ভগবদ্ধামে
গিয়ে
ভগবানকে প্রাপ্ত হলে আর এ জড়জগতে
ফিরে আসতে হবে না। “ মামুপেত্য তু
কৌন্তেয় পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে”।“যদ্ গত্বা ন
নিবর্তন্তে তদ্ধাম পরমং মম”। এভাবে
দেখানো হয়েছে জীবনের আবর্ত থেকে
অর্থাৎ বন্ধন থেকে মুক্তি পেতে হলে
জীবনকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শরণাগত
হওয়া|

যদি রাম সৃষ্টিকর্তাই হন কেন তিনি হনুমানের সাহায্য চাইবেন?

যদি রাম সৃষ্টিকর্তাই হন কেন তিনি
হনুমানের সাহায্য চাইবেন? তাহলে
কি সৃষ্টিকর্তার ক্ষমতার কমতি আছে?

উত্তরঃরাম মানবরুপে জন্মেছেন।তাই মানবীয় গুনাবলি মেনেছেন।
আর আল্লাহও কিন্তু জিবরাইলের সাহায্যেনবীর
কাছে আয়াত পাঠিয়েছেন।যদিও শয়তান মাঝে মাঝে ডিস্টার্ব করত।

হিন্দুরা কী সত্যিই বহু দেবদেবীর পূজা করে ???

প্রশ্নঃ হিন্দুরা কী সত্যিই বহু দেবদেবীর পূজা করে ??? 👈

উওরঃ প্রথমেই বলিয়া রাখি যে, ভারতবর্ষে বহু-ঈশ্বরবাদ নাই। প্রতি দেবালয়ের পার্শ্বে দাঁড়াইয়া যদি কেহ শ্রবণ করে, তাহা হইলে শুনিতে পাইবে পূজক দেববিগ্রহে ঈশ্বরের সমুদয় গুণ, এমন কি সর্বব্যাপিত্ব পর্যন্ত আরোপ
করিতেছে। ইহা বহু-ঈশ্বরবাদ নয়, বা ইহাকে কোন দেব-বিশেষের প্রাধান্যবাদ বলিলেও প্রকৃত ব্যাপার ব্যাখ্যাত হইবে না। গোলাপকে যে-কোন অন্য নামই দাও না কেন, তাহার সুগন্ধ সমানই থাকিবে। সংজ্ঞা বা নাম
দিলেই ব্যাখ্যা করা হয় না।… ভাবানুষঙ্গ-নিয়মানুসারে জড়মূর্তি দেখিলে মানসিক ভাববিশেষের উদ্দীপন হয়, বিপরীতক্রমে মনে ভাববিশেষের উদ্দীপন হইলে তদনুরূপ মূর্তিবিশেষও মনে উদিত হয়। এই জন্য হিন্দু
উপাসনার সময়ে বাহ্য প্রতীক ব্যবহার করে। সে বলিবে, তাহার উপাস্য দেবতায় মন স্থির করিতে প্রতীক সাহায্য করে। … মন্দির, প্রার্থনাগৃহ, দেববিগ্রহ বা ধর্মশাস্ত্র – সবই মানুষের ধর্মজীবনের প্রাথমিক অবলম্বন
ও সহায়ক মাত্র, তাহাকে ক্রমশ অগ্রসর হইতে হইবে।

শাস্ত্র বলিতেছেনঃ ‘বাহ্যপূজা – মূর্তিপূজা প্রথমাবস্থা; কিঞ্চিৎ উন্নত হইলে মানসিক প্রার্থনা পরবর্তী স্তর; কিন্তু ঈশ্বরসাক্ষাৎকারই উচ্চতম অবস্থা।’ (মহানির্বাণতন্ত্র, ৪।১২)

🔶🔷 #স্বামীবিবেকানন্দ_হিন্দুধর্ম_শিকাগো_বক্তৃতা 🔶🔷

অহিন্দুরা অনেকে বিশ্বাস করেন যে, আমরা হিন্দুরা বহু দেবদেবীর পূজা করি। এই ধারণা সর্বৈব ভুল। আমরা ব্রহ্ম বা এক ঈশ্বরকেই ভিন্ন ভিন্ন নামে ও ভিন্ন ভিন্ন রূপে আরাধনা করি। আসলে, ভারতের বিভিন্ন
অঞ্চলের মানুষ তাঁদের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য ঈশ্বরের নাম ও রূপভেদ সম্পর্কে স্বতন্ত্র্য কিছু ধারণা পোষণ করেন। এই কারণেই, আজকের হিন্দুসমাজে ঈশ্বরের এত রূপবৈচিত্র্য আমাদের চোখে
পড়ে। ইতিহাসের পথ ধরে হিন্দুসমাজে চারটি প্রধান ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়েছে–শৈব, শাক্ত, বৈষ্ণব ও স্মার্ত। শৈবরা শিবকে ও বৈষ্ণবরা বিষ্ণুকে সর্বোচ্চ ঈশ্বর মনে করেন। শাক্তেরা মনে করেন এই মহাবিশ্বে
মহাশক্তিই সর্বেসর্বা। স্মার্ত মতটি অনেক উদারপন্থী। তাঁরা মনে করেন, সকল দেবতাই সর্বোচ্চ ঈশ্বর ব্রহ্মের স্বরূপ। তাই তাঁরা দেবতা নির্বাচনের ভারটি ভক্তের উপর ছেড়ে দেন। অবশ্য এও মনে রাখতে হবে যে,
স্মার্ত মতটি হিন্দুধর্মে বহুল প্রচলিত হলেও, প্রধান মত নয়। সে যাই হোক, এই মতবৈচিত্র্যের জন্যই হিন্দুরা একে অপরের ধর্মমতের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল হয়ে থাকেন। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস যেমন বলেছেন, ‘যত
মত তত পথ।’ অর্থাৎ, সকল মতই সেই এক ঈশ্বরের কাছেই পৌঁছানোর এক একটি পথ।

হিন্দুধর্মের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হল এই যে, আমরা হিন্দুরা ঈশ্বরকে বহুদূরের স্বর্গে বসবাসকারী দেবতা মনে করি না। আমাদের ঈশ্বর বাস করেন আমাদের অন্তরে, আমাদের হৃদয়ে, আমাদের চেতনায়। শুধু তিনি
অপেক্ষা করেন, যতক্ষণ না আমরা আমাদের মধ্যে স্থিত ঈশ্বরকে চিনে নিতে পারি। ঈশ্বর যে আমাদের সঙ্গেই থাকেন, এই কথাটি আমাদের আশা ও শক্তি জোগায়। তাই হিন্দু জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হল সেই এক ও
অদ্বিতীয় ব্রহ্মকে জানা।

আমরা হিন্দুরা একাধারে মনোথেইস্টিক (একেশ্বরবাদী) ও হেনোথেইস্টিক। আমরা পলিথেইস্টিক বা বহুঈশ্বরবাদী নই। কারণ আমাদের হিন্দুধর্মে সমক্ষমতাসম্পন্ন একাধিক দেবতার অস্তিত্ব স্বীকার করা হয় না।
হেনোথেইজম্-ই হিন্দু মতবাদটির সঠিক সংজ্ঞা গতে পারে। এই মতবাদের মূল কথাটি হল, অন্যান্য দেবতাদের অস্তিত্ব স্বীকার করেও এক ঈশ্বরের আরাধনা করা। আমরা হিন্দুরা বিশ্বাস করি, এক সর্বব্যাপী ব্রহ্ম এই
সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডের শক্তির উৎস। মানুষ সহ সকল জীবের জীবনের মধ্যেই আমরা তাঁকে প্রত্যক্ষ করি। সকল জীবের মধ্যে ঈশ্বরের অবস্থান ও ঈশ্বর কর্তৃক সকল জীবের প্রাণধারণের এই মতবাদটিকে বলে
প্যানেনথেইজম। প্যানথেইজমের থেকে এটি আলাদা। কারণ, প্যানথেইজম বলে প্রাকৃতিক ব্রহ্মাণ্ডখানিই ঈশ্বর এবং তার বেশি কিছু নয়। অন্যান্য ধর্মের রক্ষণশীল ধর্মতাত্ত্বিকগণ মনে করেন, ঈশ্বর জগতের উর্ধ্বে,
জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন এবং মানুষের অভিজ্ঞতা ও বুদ্ধির অগম্য। হিন্দুধর্ম তা মনে করে না। প্যানেনথেইজম একটি সর্বময় ধারণা। এটি বলে, ঈশ্বর জগতের ভিতরে ও বাইরে দুই স্থানেই আছেন। তিনি একাধারে মানুষের
চেতনার আয়ত্তাধীন, আবার অগম্যও বটে। এই বৃহত্তর ধারণাটিই হিন্দুর ধারণা।

আমাদের হিন্দুদের বিভিন্ন শাখাসম্প্রদায়ে ব্রহ্মের নানান নাম প্রচলিত রয়েছে। এই নামবৈভিন্ন্যের কারণ সম্প্রদায়গুলির স্বতন্ত্র ধর্মীয় প্রথা ও রীতিনীতি। আর এই নামবৈভিন্ন্যই অহিন্দুদের যাবতীয় ভ্রান্ত ধারণার কারণ।
হিন্দুরা পরম সত্যকে বিভিন্ন নামে চিহ্নিত করে, কিন্তু তাই বলে পরম সত্য স্বয়ং বিভিন্ন হয়ে যান না। এই বিভিন্ন নাম থেকে বিভিন্ন রূপের উৎপত্তি; কিন্তু প্রত্যেক রূপই সেই এক এবং অদ্বিতীয় ব্রহ্মের
রূপান্তর-মাত্র। হিন্দুধর্মে ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানোর অনেক পথের সন্ধান দেওয়া হয়েছে। আমরা হিন্দুরা প্রতিটি পথকেই অভ্রান্ত মনে করি। তাই কোনো একটি নির্দিষ্ট পথকে সকলের উপর জোর করে চাপিয়ে
দেওয়ার পক্ষপাতী আমরা নই। পথ নির্বাচনের ব্যাপারে আমরা হিন্দুরা পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করি।

তবে এই বিষয়ে শুধু অহিন্দু নয়, অনেক হিন্দুর মধ্যেও ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। ঈশ্বর ও দেবতার মধ্যে যে সূক্ষ্ম পার্থক্য বিদ্যমান, তা অনুধাবন করতে পারলেই এই ভ্রান্ত ধারণা দূর হয়। ঈশ্বর সম্পর্কে আমাদের হিন্দুদের
ধারণায় কোনো সংকীর্ণতা নেই। এখানে বলে রাখা ভাল, হিন্দুদের একাংশ নিরাকার ঈশ্বরেরও উপাসনা করেন। অন্যেরা দেবতাদের ব্যক্তিগত দেবতা (ইষ্টদেবতা বা কূলদেবতা) হিসেবে পূজা করেন। স্বামী বিবেকানন্দ
এই প্রসঙ্গে একটি প্রণিধানযোগ্য উক্তি করেছেন, “যে একাগ্র সাধক জানু পাতিয়া দেববিগ্রহের সম্মুখে পূজা করেন, লক্ষ্য কর – তিনি তোমাকে কি বলেন, ‘সূর্য তাঁহাকে প্রকাশ করিতে পারে না; চন্দ্র তারা এবং এই
বিদ্যুৎও তাঁহাকে প্রকাশ করিতে পারে না; এই অগ্নি তাঁহাকে কিরূপে প্রকাশ করিবে? ইহারা সকলেই তাঁহার আলোকে প্রকাশিত।’ (কঠ উপনিষদ ২।২।১৫; শ্বেতাশ্বেতর উপনিষদ ৬।১৪; মুণ্ডক উপনিষদ ২।২।১০)
তিনি কাহারও দেববিগ্রহকে গালি দেন না বা প্রতিমাপূজাকে পাপ বলেন না। তিনি ইহাকে জীবনের এক প্রয়োজনীয় অবস্থা বলিয়া স্বীকার করেন। শিশুর মধ্যেই পূর্ণ মানবের সম্ভাবনা নিহিত রহিয়াছে। বৃদ্ধের পক্ষে
শৈশব ও যৌবনকে পাপ বলা কি উচিত হইবে? হিন্দুধর্মে বিগ্রহপূজা যে সকলের অবশ্য কর্তব্য, তাহা নয়। কিন্তু কেহ যদি বিগ্রহের সাহায্যে সহজে নিজের দিব্য ভাব উপলব্ধি করতে পারে, তাহা হইলে কি উহাকে
পাপ বলা সঙ্গত?” (‘হিন্দুধর্ম’, শিকাগো বক্তৃতা) বিশ্বের প্রাচীনতম জীবিত এবং সর্বাপেক্ষা ঐশ্বর্যশালী ধর্মমতের এই বৈশিষ্ট্য অনন্য। স্বামী বিবেকানন্দের ভাষায়, ‘বহুত্বের মধ্যে একত্বই প্রকৃতির ব্যবস্থা,
হিন্দুগণ এই রহস্য ধরিতে পারিয়াছেন।’ (‘হিন্দুধর্ম’, শিকাগো বক্তৃতা)

সূত্রঃস্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা, প্রথম খণ্ড, উদ্বোধন কার্যালয়, কলকাতা।
হিন্দুইজম টুডে পত্রিকা।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সম্পর্কে চমকপ্রদ কিছু তথ্য ...

জেনে নিই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সম্পর্কে
চমকপ্রদ কিছু তথ্য ....
 __ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ
দ্বাপর যুগের শেষে আজ থেকে পাঁচ
হাজার দুইশত আটত্রিশ বছর আগে
পৃথিবীতে এসেছিলেন।। তিনি 125 বছর এই
ধরাধামে ছিলেন।।

__ কৃষ্ণ যদু বংশে আবির্ভূত হয়েছিলেন।। __
কৃষ্ণ অভ্যাসগত কারনে যখন দাঁড়িয়ে বাঁশি
বাজান তখন ডান পা সামনে রাখেন আর
বাম পা দিয়ে পেছনে ভারসাম্য রক্ষা
করেন।

__ কৃষ্ণের 16108 জন গোপিকা ছিলেন।। এর
মধ্যে 108 জন শ্রেষ্ঠ।। তাঁদের মধ্যে আট
জনহলেন অসাধারণ।। রাধারানী হলেন
সর্বশ্রেষ্ঠ এবং অন্তরঙ্গা শক্তি।।
শাস্ত্রে বলে,রাধা পূর্ণ শক্তি, কৃষ্ণ পূর্ণ
শক্তিমানদুই বস্তু ভেদে নাই, শাস্ত্রের
প্রমাণ।।
__ কৃষ্ণের চরণ কমলে উনিশটি শুভ চিহ্ন
রয়েছে।।

__ তাঁর গায়ের রং ঈষৎ নীল ঈষৎ কালো।।
তিনি পীত বস্ত্র পরিধান করতে পছন্দ
করেন।।

__ তিনি সর্বদা বৈজয়ন্তী মালা গলায়
ধারণ করে থাকেন যা হাঁটু পর্যন্ত বিস্তৃত
থাকে।।

__ তিনি কখনোই ক্ষুধার্ত বা তৃষ্ণার্ত হন
না।।

__ কোন প্রকার রোগ শোক তাঁকে স্পর্শ
করতে পারে না।।

_ তিনি গরীব দুঃখী এবং ব্রাহ্মনদের
ভোজন করিয়েছিলেন।। বয়স্কদের সেবা
করেছিলেন এবং বিভিন্ন রকম জন
কল্যাণকর কার্য সম্পাদন করেছিলেন।। _
তাঁর শঙ্খের নাম পাঞ্চজন্য এবং ধনুকের
নাম সারঙ্গ।।

__ তিনি একমাস বয়সে পুতনা এবং বার বছর
বয়সে কংসকে বধ করেছিলেন।। __ তিনি
দ্রৌপদীকে অপরিমেয় বস্ত্র দান করে
রক্ষা করেছিলেন।।

__ তিনি সব সময় তাঁর সিদ্ধান্তে অটল।।
মহাভারতের কোথাও তাঁকে সিদ্ধান্ত
পরিবর্তন করতে দেখা যায় নাই।

__ তাঁররাজত্বকালে তাঁকে কেউই পরমেশ্বর
ভগবান বলে চিনতে পারেননি।। তবে
চিনতে পেরেছিলেন শুধু একজন।। তিনি
ভীষ্মদেব।। আর কৃষ্ণ নিজে প্রকাশিত
হয়েছিলেন এবং বিশ্ব রুপ দেখিয়েছিলেন
শুধু অর্জুনকে।। গীতার জ্ঞান প্রকাশিত
হওয়ার পরই আজ এই কলিযুগের মানুষেরা
তাঁকে ভগবান বলে চিনতে পেরেছে।।

পিয়াজ রসুন মসুর ডাল প্রভৃতি কে আমিষ খাদ্য বলা হয় হচ্ছে কেন ???

প্রশ্নঃ পিয়াজ রসুন মসুর ডাল প্রভৃতি হচ্ছে গাছের
ফল। তবুও কেন সেগুলিকে আমিষ খাদ্য বলা হয়
হচ্ছে? 
এটা কি কুসংস্কার?
পিয়াজ রসুন এগুলো গাছের ফলও নয় আমিষ খাদ্য ও
নয়। সাত্বিক খাদ্যই মন ও শরীর গঠনের অনুকূল।
ডিম মাছ কচ্ছপ চিংড়ি কাঁকড়া হাঁস কাক ছাগল কুকুর শুকর গরু
বাদুড় মানুষ ইত্যাদি রক্ত মাংস যুক্ত তন্মধ্যে বস্তুকে
আহার করাই হচ্ছে সমাজের কুসংস্কার। পিয়াজ রসুন
মসুর ডাল প্রভৃতি খাদ্য অধিক উত্তেজক বস্তু
জেনে আত্বিক ব্যক্তিরা এগুলি গ্রহন করতে
নিষেধ করেছেন মাত্র। পুরানে উক্ত হয়েছে
সমুদ্র মন্থনকালে উত্থিত অমৃত ভগবান মুহিনী
অবতার দ্বারা পরিবেশ কালে দেব ছদ্মবেশী
রাহুনামক এক অসুর অমৃত গ্রহন করেছিলেন। এমন
সময় চন্দ্র সূর্যদেবের ইঙ্গিতে মুহিনী অবতার
সুদর্শন চক্র দিয়ে রাহুর গলা কেটে দেন। রাহু
অসুরের রক্ত মাটিতে পতিত হলে সেখান থেকে
পিয়াজ রসুনের জন্ম হল। তাই পিয়াজ রসুন গ্রহন
করলে শরীরে আসুরিক ভাব ও উত্তেজনা বৃদ্ধি
পায়। সেই হেতু ঐ উত্তেজক পদার্থ সাধু ব্যক্তিগণ
গ্রহন করেন না মুনুসংহিতায় পিয়াজ রসুন খেতে
নিষেধ রয়েছে।
মসুর ডালও এই রকমই ডাল যা অন্যান্য আমিষ খাদ্যের
মতোই মানুষের শরীরে আত্বিক ভাব নষ্ট করে।
মাছ মাংস ডিম ইত্যাদি উগ্র হিংস্র প্রাণীর খাদ্য মানুষকে
খেতে নিষেধ করা হয়েছে। ফল ফুল পাতা ইত্যাদি
উদ্ভিজ খাদ্য মানুষকে গ্রহন করতে ভগবান নির্দেশ
দিয়েছেন। গাছ থেকে ফল ফুল পাতা মাঠিতে ঝরে
পড়লে তবে সেই ফল ফুল পাতা খাদ্য হিসাবে গ্রহন
করা যাবে। নতুবা গ্রহন করা পাপ হবে। এরকম কথা
আমরা শুনিনি। লাউ, পুঁই, বেগুন, কুমড়ো, শশা, লংকা,
ঢেঁড়স, ইত্যাদি গাছ থেকে পাতা কিংবা ফল ঝরে
পড়লে সেই পাতা বা ফল খাওয়া যাবে নতুবা যাবে না
এ্ই রকম কথা কোথাও লেখা নেই। ভগবানকে পূজা
করতে হলে গাছ থেকে ফুল তুলতেই হয়।
অতএব ভগবানকে নিবেদন করে উদ্ভিজ খাদ্য
গ্রহন করলে কোন পাপ হয় না ।
হরে কৃষ্ণ......

collected

দশবিধ নাম অপরাধ গুলো কি কি ?

দশবিধ নাম অপরাধ গুলো কি কি ?
উত্তরঃ
۞ যে সমস্ত ভক্ত ভগবানের দিব্য নাম প্রচার করার জন্য নিজেদের সর্বতোভাবে উৎসর্গ করেছেন তাঁদের নিন্দা করা।
۞ “শিব , ব্রহ্মা আদি দেবতাদের নাম ভগবানের নামের সমান অথবা তা থেকে স্বতন্ত্র বলে মনে করা।
۞ গুরুদেবকে অবজ্ঞা করা।
۞ বৈদিক শাস্ত্র বা বৈদিক শাস্ত্রের অনুগামী শাস্ত্রের নিন্দা করা।
۞ ‘ হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র ‘ কীর্তন করার মাহাত্মকে কাল্পনিক বলে মনে করা।
۞ ভগবানের নামে অর্থবাদ আরোপ করা।
۞ নাম বলে পাপ আচরণ করা।
۞ ‘ হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র ‘ উচ্চারণ করাকে বৈদিক কর্মকাণ্ডে বর্ণিত পুণ্যকর্ম বলে মনে করা।
۞ শ্রদ্ধাহীন ব্যক্তিকে ভগবানের দিব্য নামের মহিমা সম্বন্ধে উপদেশ করা।
۞ ভগবানের নামের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস না থাকা এবং তাঁর অগাধ মহিমা শ্রবন করার পরও বিষয়াসক্তি বজায় রাখা।
কখনোই এই সব অপরাধ করবেন না।
তাই নিজে জানুন অন্য কে জানান।